image: google

হার্ট সুস্থ্য রাখতে হলে খাদ্য তালিকায় নিয়ে আসুন এইসব পরির্বতন

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হার্ট সুস্থ্য রাখতে হলে খাদ্য তালিকায় পরির্বতন একান্ত প্রয়োজন। খাদ্য তালিকার পরির্বতন এড়াতে পারে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক এর মত জটিল সব রোগ। ব্রিটেনের পুষ্টি ফাউন্ডেশন এর এক প্রতিবেদনে জানিয়েচে, বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও এই দুটি কারণে বহু মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। তাদের পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটেনে যতো মানুষের অকাল মৃত্যু হয়, তার অন্তত চার ভাগের এক ভাগ অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী হার্ট অ্যাটাক। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব বলে তারা জানান।

তাদের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মানব দেহের অতি ক্ষুদ্র একটি অণুজীব মাইক্রোবায়োম যদি সুস্থ্য থাকে এবং কোমরের আকার যদি খুব বেমি বেড়ে না যায়, পাশাপাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখা যায়, তাহলে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সেই সাথে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সমান্য কিছু পরির্বতন এনেই এসব অজর্ন করা সম্ভব।

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক যেসব পরির্বতন হৃদরোগ এর ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম:
যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার রয়েছে, সেসব খাবার খেতে হবে। এসব খাবারের কারণে শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। আর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এই ব্যাকটেরিয়া। বেশি আঁশ আছে এমন রকম সবজির মধ্যে রয়েছে শিম, মটরশুটি জাতীয় সবজি, ডাল ও ফলমূল। আলু এবং শেকড় জাতীয় সবজি খোসা সহ রান্না করলে সেগুলো হতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ পাওয়া যায়। এছাড়াও হোলগ্রেইন আটার রুটি এবং বাদামী চাল খাবারও পরামর্শ দিয়েছেন।

পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেছেন, যেসব খাবারে বেশি পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট বাঁধা চর্বি থাকে, সেসব খাবার খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে বেড়ে যায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও। চিজ, দই, লাল মাংস, মাখন, কেক ও নারকেলে তেলে প্রচুর পরিমোণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। তাই এসব স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার পরিহার করতে হবে। এসব খাবারের পরির্বতে তেল সমৃদ্ধ মাছ, বাদাম, অলিভ, এবং কর্ন ওয়ালনাট তেল দিয়ে রান্না করারও উপর জোর দিয়েছেন। সপ্তাহে অন্তত ১ দিন এমন মাছ খেতে হবে যে মাছে তেল রয়েছে।

লবণ বেশি খেলে শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এর ফলে বৃদ্ধিপায় হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও। লবণ যত কম খাওয়া যায় ততই মঙ্গল। লবণের পরির্বতে মশলা দিয়ে খাবার প্রস্তুত করলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে।

যেসব খাবারে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ বেশি থাকে, সেগুলো আমাদের সুস্থ্য রাখতে সাহায্যে করে। শুধু তাই নয়, এসব খাবার হৃদরোগের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামের মত খনিজ উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করে। হৃদরোগের যেসব কারণ রয়েছে সেগুলোও ঠেকাতে কাজ করে ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার। প্রতিদিন ৫টি ফল বা সবজ, ১ গ্লাস জুস, শিম ও ডাল জাতীয় শস্যও খেতে পারেন। বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবারে থাকে ভিটামিন ই। মাছ, দুগ্ধজাত খাবার ও হোলগ্রেইনে পাওয়া যায় ভিটামিন বি। কলা, আলু ও মাছে রয়েছে পটাসিয়াম।

এছাড়া আপনি বেশি মোটা হয়ে গেলে যেসব উপায়ে ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। প্রতিদিন ৭ হতে ৮ ঘণ্টা ঘুমান। সপ্তাহে অন্তত আড়াই ঘণ্টা ব্যয়াম করুন। মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন। ধূমপান ছেড়ে দিন। যত বেশি ক্যালরি কমাতে পারবেন আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তত বেশি কম।

About By Editor

Check Also

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে- প্রেম মানে না কোনো বাঁধা, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x