Tuesday , November 24 2020
Image: google

সঙ্গীকে পরকীয়া সর্ম্পক থেকে যেভাবে বের করে আনবেন এবং নিজে যেভাবে এই সমস্যা হতে মুক্ত থাকবেন

সঙ্গীকে পরকীয়া সর্ম্পক থেকে যেভাবে বের করে আনবেন – পরকীয়া সমাজের একেবারে নতুন উপাদান নয়। তবে বিশেষত বাংলাদেশের সমাজে এ ধরনের সম্পর্ক এতোটা সর্বগ্রাসী আগে কখনোই ছিল না। কিন্তু কেন বাড়ছে পরকীয়া?

সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন এগিয়ে যাচ্ছে নারী। মেশার সুবিধার কারণে অনেক সময় নারী-পুরুষের বন্ধুতা থেকে শুরু হয় পরকীয়ার। তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধার কারণেও এই ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। মূল্যবোধের অবক্ষয়কেও একটি বড় কারণ মনে করেন সমাজ বিজ্ঞানীরা। ভিনদেশী টিভি চ্যানেলের বিভিন্ন

প্রোগ্রাম ছাড়াও ইদানীং দেশে তৈরি অনেক নাটক-সিনেমাতেও পরকীয়াকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরকীয়ার কারণে পরিবার ভেঙে যায়। পারিবারিক ও সামাজিক সুখ নষ্ট হয়। একটি সমাজকে নষ্ট করে দেয়ার জন্য পরকীয়া বিষাক্ত ভাইরাসের মতোই কাজ করে বলে তারা মনে করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের

অধ্যাপক মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী বলেন, আগে স্বামীকে খুশি রাখতে স্ত্রীরা ব্যস্ত থাকতেন। নারীরা সাধারণত তখন গৃহবধূ হিসেবেই ছিলেন। পুরুষের সঙ্গে সেভাবে মেলামেশার সুযোগ প্রায় ছিলো না। তবে পরকীয়া তখনও ছিলো। কিন্তু আধুনিকায়নের ফলে পরকীয়া বেড়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৮ ভাগ নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণই হচ্ছে

পরকীয়া। গণমাধ্যমের কারণে এখন পরকীয়ার বিষয়টি জানা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। পরকীয়া বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নারীরা এখন শিক্ষিত হচ্ছেন। নানা পেশায় পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করছেন। নারী-পুরুষ কাছাকাছি আসার কারণেই পরকীয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সেইসঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধাতো রয়েছেই। নারীরা এগিয়ে যাকÑ এটা সকলের চাওয়া। তাই বলে নিজের নৈতিকতা-শালীনতা বিসর্জন দিয়ে তা হতে পারে না। এ বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা

বর্ণনা করেন অধ্যাপক মাসুদা। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি তখন ওই সংগঠনের পরিচালক। তখন দেখেছি ব্যবসা করার জন্য ব্যবসায়ী নেতা-পরিচালকদের সঙ্গে কিছু নারী যে আচরণ করতেন তা কোনভাবেই ভদ্রসমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এরকম অনেক ক্ষেত্রেই স্বার্থের কারণে এ ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে যান অনেকে। আবার কিছু ক্ষেত্রে বিপদে পড়ে পরকীয়ায় জড়ান নারীরা। অনেক ক্ষেত্রে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন

তারা। এছাড়া, অনেকেই এটাকে কোন অপরাধ মনে করেন না। যে কারণে বহুগামিতা বাড়ছে। এ জন্য এটাকে নৈতিক শিক্ষার অভাব বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া, ভিনদেশী সংস্কৃতি অনুসরণ-অনুকরণকে দায়ী করে অধ্যাপক মাসুদা বলেন, স্যাটেলাইটের কারণে সহজেই ভিনদেশী সংস্কৃতির প্রভাব পড়ছে। এর নেতিবাচক দিক অনুসরণ-অনুকরণ করা কোনভাবেই ঠিক না।

গত ঈদে পাখি জামার প্রসঙ্গ তোলে ধরে তিনি বলেন, পাখি জামা না পেয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যা করলো। এর চেয়ে খারাপ কি হতে পারে। তাদের পোশাক আর আমাদের পোশাকতো একই রকম না। তাদের সংস্কৃতি আর আমাদের সংস্কৃতি একই রকম না। এ জন্য পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। নৈতিক শিক্ষা দিয়ে সন্তানদের বড় করতে হবে। নতুবা ভবিষ্যতে পরকীয়া বাড়বে। সংসার ভাঙনের হারও বাড়বে। পরিবার প্রথা আমাদের ঐতিহ্য-অহংকার।

এই পরিবার প্রথাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, মানুষ সহজাত প্রবৃত্তির পক্ষে। ক্রমান্বয়ে লজ্জা কমে যাচ্ছে। যে কারণে মানুষের বৈচিত্র্যময় গোপন ইচ্ছেগুলো সহজে প্রকাশ পাচ্ছে। অতীতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একসময় ডিভোর্স ছিলো খুব লজ্জার। কারও ডিভোর্স হলে তা গোপন রাখা হতো। যুগের পরিবর্তনে এখন অহরহ ডিভোর্স হচ্ছে। এতে কারও লজ্জা হচ্ছে না।

একইভাবে পরকীয়াকে অনেকে সমর্থন করছেন। কিন্তু সমাজের জন্য তা কোনভাবেই ভালো হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, উন্নত বিশ্বের আধুনিকায়নের পার্শ¦প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আমাদের দেশের পরকীয়া সম্পর্ক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মূল্যবোধের পরিবর্তন হচ্ছে। আগে শিশুদের যেভাবে শিক্ষা দেয়া হতো এখন সেভাবে দেয়া হচ্ছে না। এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রাধান্য পাচ্ছে। নারী-পুরুষ সবাই কমবেশি শিক্ষিত হচ্ছে। স্বনির্ভর হচ্ছে।

তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করছেন তারা। এসব কারণেই পরকীয়া বাড়ছে বলে মনে করেন এই শিক্ষক। এসব থেকে সমাজকে মুক্ত করতে ব্যক্তি সচেতনতা প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, চাই চাই ভাবের চেয়ে কার্যক্রমে সংযম থাকতে হবে। সন্তানরা যেন অনৈতিক দিকে পা না বাড়ায় সেভাবেই তাদের শিক্ষা দিতে হবে। নতুবা বিশৃঙ্খলা-অশান্তির আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস মনে করেন পরকীয়াতে লজ্জার কিছু নেই। তিনি বলেন,

মানসিক শান্তি-স্বস্তির জন্যই পরকীয়া মেনে নেয়া প্রয়োজন। এই সম্পর্ক থেকে বের হতে চান ? পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন? অপরাধ বোধেও ভুগছেন, কিন্তু আবার বেরিয়ে আসার কথা ভাবলেই মনে হচ্ছে জীবনের অবলম্বন হারাবেন? বার বার ভেবেছেন এ বার ভেঙেই ফেলবেন সম্পর্ক, কিন্তু আসল সময় এলেই জানাতে গিয়ে পিছিয়ে আসছেন? ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি?

জেনে নিন এমনটা হলে কী করবেন।
যে কোনও সম্পর্ক শেষ করার সবচেয়ে ভাল উপায় সামনা-সামনি সরাসরি জানানো। যদি সামনা-সামনি জানাতে না পারেন তাহলে ফোনে, ই-মেল লিখে সহজ ভাবে, বিনীত ভাবে জানান। পালিয়ে গিয়ে বা দোষারোপ করে সম্পর্ক শেষ করতে গেলে হীতে বিপরীত ফল হতে পারে।

সিদ্ধান্ত: পরকীয়া ভেঙে বেরিয়ে আসতে হলে সবচেয়ে আগে আপনাকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যা করছেন তা শুধু আপনার বিয়ে ভাঙতে পারে তাই নয়, আপনার স্বামী বা স্ত্রীর বিশ্বাসভঙ্গ করছেন। যে আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হয়ে আপনার কাছে ফিরে আসতে পারে।

সরাসরি:
যে কোনও সম্পর্ক শেষ করার সবচেয়ে ভাল উপায় সামনা-সামনি সরাসরি জানানো। যদি সামনা-সামনি জানাতে না পারেন তাহলে ফোনে, ই-মেল লিখে সহজ ভাবে, বিনীত ভাবে জানান। পালিয়ে গিয়ে বা দোষারোপ করে সম্পর্ক শেষ করতে গেলে হীতে বিপরীত ফল হতে পারে।

সময়:
যদি সত্যিই সম্পর্ক শেষ করতে চান তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা করুন। চাইছেন, অথচ বার বার ফিরে এসে সময় নষ্ট করছেন এমনটা হলে কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। দেরি না করে তাই আপনার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিন।

যোগাযোগ:
সম্পর্ক শেষ করলেন অথচ তাও যোগাযোগ রেখে গেলেন এমনটা যেন না হয়। সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। যোগাযোগ রেখে শুধু শুধু একটা সম্পর্ককে টেনে নিয়ে যাবেন না।

সাহায্য:
যদি নিজের চেষ্টায় সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে না পারেন তাহলে থেরাপিস্টের সাহায্য নিন। অনেক সময়ই আবেগের বশে আমরা যুক্তি দিয়ে ভাবতে পারি না। সেই কারণেই এমন কারও সাহায্যের প্রয়োজন হয় যিনি ব্যাপারটা পেশাগত ভাবে দেখবেন।

বিবাহিত জীবন:
নিজের বিবাহিত জীবনে মন দিন। আপনার স্বামী বা স্ত্রীর আপনার জন্য কী করেছেন ভাবুন। পরিবারে নিজের গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করুন। নতুন দায়িত্ব নিন। এ ভাবে পরকীয়া সম্পর্ক কাটিয়ে ওঠা অনেক সহজ হবে।

About By Editor

Check Also

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে- প্রেম মানে না কোনো বাঁধা, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *