Thursday , November 26 2020
Image: google

মহামারিতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করবে যে খাবারগুলো……

মহামারিতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ বাড়াবে যে খাবারগুলো……- করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক এবং উচাটনের শেষ নেই। কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে তো এর মোকাবিলা করা যাবে না। যেটা করতে হবে তা হল সাবধানতা বাড়ানো। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী লকডাউনে যাবতীয় নির্দেশ মেনে চলতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আমরা কেউই কিন্তু এই ভাইরাস থেকে নিরাপদ নই।

তার ওপর অতিমারির এই ভাইরাসের প্রতিষেধকও এখনও অনাবিষ্কৃত। তা হলে কী বাঁচার কোনো উপায় নেই, না আছে। অবশ্যই আছে। খুব সাধারণ কিছু বিষয় আছে, যেগুলি মেনে চললে এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। কী সেই অভ্যাস? বার বার হাত ধোয়া, নাকমুখ ঢেকে মাস্ক ব্যবহার করা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এই হল মূল মন্ত্র।

তার সঙ্গে যে বিষয়টি অবিচ্ছেদ্য তা হল খাদ্যাভ্যাস। কারণ এর সাহায্যেই আমরা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে পারি। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্ষম হতে পারি। তাঁরা বলছেন, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, কিডনির সমস্যা যাঁদের রয়েছে তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক গুণ বেশি। কারণ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম। তাই বাড়াতে হবে সেই ক্ষমতাকেই।

শুধু তাঁরাই নন, সাধারণ সুস্থ মানুষকেও এই সময় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে হবে। তার জন্যই তৈরি করতে হবে উপযুক্ত খাদ্য তালিকা। কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন যে সব খাবার রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়: চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক যেসসব খাবারের নাম-

ফল – তার মধ্যে আছে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার। এর মধ্যে পড়ে টক জাতীয় ফল। যেমন – পাতিলেবু, কমলালেবু, আমলকী, কুল, পেয়ারা, আনারস, বেদানা, কালো জাম, মালটা, পাকা পেঁপে, কলা, শশা ইত্যাদি।

শাকসবজি – শাক সবজিও বাছাই করতে হবে সেই মতোই। ক্যাপসিকাম, সরষে শাক, ব্রোকলি, পুদিনা পাতা, থানকুনি পাতা, রাঙা আলু ইত্যাদি।
প্রাণীজ খাবার – প্রাণীজ খাদ্যের মধ্যে অবশ্যই দুধ, টকদই, ছানা, মাছ, ডিম ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।

ভেষজ ও মশলা – শুধু এগুলিই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলসী, আদা, রসুন, কাঁচা হলুদ, দারচিনি, জষ্ঠিমধু, গোলমরিচ, লবঙ্গ, কাবাবচিনি, মেথি, মধু এই মশলাগুলি খুবই উপকারী রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। তা ছাড়াও – সম্ভব হলে অবশ্যই খাওয়া যেতে পারে, মাশরুম ও চিকেন অর্থাৎ মুরগির মাংস।

তিনটি টোটকা –
কাঁচা হলুদ – তাঁদের মতে, প্রতিদিনের ডায়েটে অ্যান্টিভাইরাল খাবার অন্তর্ভুক্ত করা খুবই জরুরি। সে ক্ষেত্রে রয়েছে কয়েকটি টোটকা। এক, গরম দুধ বা গরম জলে কাঁচা হলুদবাটা বা গুঁড়ো হলুদ মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

রসুন – দুই, প্রতিদিন একটি করে রসুনের কোয়া চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে,
আদা – তিন, চিনি ছাড়া লিকার চা আদা দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এই তিন পদ্ধতি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা যেমন বাড়ায়, তেমনই শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকযন্ত্রের কার্যকারিতাও বাড়ায়। ফলে কোনো রকম সংক্রমণের হাত থেকে শরীর নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়।

সরষের তেলে প্রতি দিনের রান্না না করে পরিবর্তে করা যেতে পারে সাদাতেল বা নারকেল তেলে। নারকেল তেলে থাকে লরিক অ্যসিড ও কাপ্রিলিক অ্যসিড। এই দুই অ্যসিড ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

এই সমস্তই এক কথায় অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যাবতীয় ভিটামিন ও প্রচুর পরিমাণ মিনারেল অর্থাৎ খনিজযুক্ত খাবার। তবে এই টানটান পরিস্থিতিতে অবশ্যই বাইরের খাবার, বা মশলাদার খাবার খাওয়া যাবে না। অবশ্যই ধূমপান ও মদ্য পান করা যাবে না বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

About By Editor

Check Also

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে- প্রেম মানে না কোনো বাঁধা, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x