image: google

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাতে সক্ষম যে গাছ

মানব শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী ও মজবুত অঙ্গ হলো হাড়। শরীরের গঠন, র্স্পশকাতর অঙ্গের সুরক্ষা, আকৃতি, জোড়ার নড়াচড়া ও দৈনন্দিন জীবনে চলার প্রতিটি মুহুর্তে হাড়ের অবদান অকল্পনীয়। এই হাড় ছাড়া আপনি ১ সেকেন্ডও নড়াচড়া করতে পারবেন না। হাড়ের মজ্জা ও রক্তকণিকা তৈরি করে, ক্যালসিয়াম স্টোর করে এবং হাড়ের প্রয়োজনে তা সহায়তা করে থাকে। মানব শরীরের ছোট বড় সব মিলিয়ে ২০৬টি হাড়ের প্রতিটিই শর্করা, অমিষ, কোলাজেনন, পানি ও খনিজ লবণ দিয়ে তৈরি। নানা প্রকার খনিজ লবণ ও ক্যালসিয়াম হাড়ের মজবুত গঠন এবং হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে।

মানুষের জীবনে কোন না কোন সময় হাড় ভাঙ্গার প্রবণতা দেখা দেয়। এছাড়াও দূর্ঘটনা কিংবা খেলাধূলা করতেও অনেক সময় হাড় ভেঙ্গে যায়। শুধু তাই নয় হাড়ের নানা প্রকার রোগের কারণে হাড়ে ভঙ্গুরতা সৃ্ষ্টি হয়ে হাড় ভাংতে পারে। যদি কখনো হাড় ভেঙ্গে যায় তাহলে আমাদের চিন্তার অন্ত থাকে না। ছোটাছুটি শুরু হয় ডাক্তার, কবিরাজদের নিকট। তবে এত দুশ্চিন্তা না করে প্রাকৃতিকভাবে ওষুধী গাছ দিয়ে হাড় ভাঙ্গা সারিয়ে তোলা সম্ভব। ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাতে সবচেয়ে উপযোগী ও কার্যকার ওষুধী গাছ হলো অস্থিসংহার।

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক এই গাছের বিভিন্ন প্রকার ওষুধীগুণ: ১। অস্থিসংহার বা হাড়জোড়া হাড় ভাঙ্গা জোড়া লাগতে অত্যন্ত কর্যকর। এর ডাঁটা ও পাতা সমপরিমাণ রসুন ও গুগগুলু একসাথে বেটে নিয়ে গরম করে ভাঙ্গাস্থানে প্রলেপ দিলে ভাঙ্গা হাড় জোড়া লেগে যাবে। তবে লক্ষ্যনীয় যে, এই প্রলেপটি দু/এক দিন পর পর পরির্বতন করে নতুন প্রলেপ দিতে হবে।

২। হাড়ের ব্যথা ও হাড় ফোলা সারাতে অস্থিসংহার এর ডাঁটার সাথে সমপরিমাণ গন্ধাবাদালি ও নিশিন্দার পাতার সাথে অর্ধেক পরিমাণ ধুতরার পাতা একত্রে বেটে কুসুম করম করে কয়েকদিন প্রলেপ দিলে উভয়েই সেরে যাবে। ৩। যাদের অনিয়মিত পিরিয়ড অর্থাৎ মাসের দিনগুলিতে এগিয়ে বা পিছিয়ে গেলে কচি হাড়া জোড়ার ডাঁটা কুচি কুচি করে কেটে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর সেই গুঁড়ো হালকা পানি মিশ্রণ করে দিনে ২ বার কয়েক দিন খেলে পিরিয়ড স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

৪। হাড়জোড়ার গুঁড়া সকাল, বিকেল খেলে শ্বাঃসকষ্টজনিত সকল সমস্যা দূর হয়ে যায়। ৫। কানে পুঁজ হলে কিংবা কানে বেশি ময়লা জমরে ৫০ গ্রাম সমপরিমাণ সরিষার তেলে প্রায় ৩০ গ্রাম হাড়জোড়ার ডাঁটা কেটে আলুভাজার মত করে প্রতিদিন কানে ২/১ ফোঁটা করে দিলে কানের সমস্যা সেরে যাবে।

৬। পেটে কৃমি বৃদ্ধি পেলে হাড় জোড়ার গুঁড়ো ঘিয়ে ভেজে পানি দিয়ে দিনে ২/৩ বার খেলে কৃমির সমস্যা দূর হয়ে যাবে। ৭। হাড়জোড়া বা অস্থিসংহার এর কচি ডাঁটা ভস্ম পেট ফাঁপা, বদ হজম ও অন্যান্য পেটের যাবতীয় সম্যায় দারুন উপকার করে থাকে। এছাড়ও এর পাতা ও লতার অ্যালকোলীয় নির্যাস উচ্চরক্তচাপ রোধক ও মূত্রবর্ধক হিসেব দারুন কাজ করে থাক।

অস্থিসংহার বা হাড় জোড়ার পরিচিতি: এই ওষুধী গাছটি হাড়জোড়া বা হাড়ভাঙ্গানামে বেশি পরিচিত। এটির পাতা ৪ কোণা বিশিষ্ট সবুজ রসালো পাতা হয়ে থাকে। প্রায় ৬ হয়ে ১২ সেন্টিমিটার লম্বা পর্ব পরপর জুড়ে শিকরের আকৃতি ধারণ করে থাকে। এর পাতা হৃদপিন্ডের মত হয়ে থাকে। বোটাসহ প্রায় ৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর লতার শীর্ষে এক একটি পর্বগুচ্ছাকারে লোমযুক্ত সাদা সাদা ফুল জন্ম নেয়।

About By Editor

Check Also

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে- প্রেম মানে না কোনো বাঁধা, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *