Wednesday , January 27 2021
Image: google

প্রেমিকা তুলসী গণেশ ঠাকুর দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল যে কারণে

প্রেমিকা তুলসী গণেশ ঠাকুর দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল যে কারণে – গণেশের নাম নিলে নাকি সব ধরনের বাধা-বিঘ্ন দূর হয়ে যায়। কিন্তু, সেই গণেশই প্রেমিকা তুলসীকে নিরাশ করেছিলেন। এক প্রেমিকার অনুভূতিকে এমনভাবে প্রত্যাখান করেছিলেন যে আজও গণেশের এই আচরণ নিয়ে কথা হয়।ধর্মরাজের মেয়ে তুলসী এমন রূপসী এবং উচ্চমার্গের সাধিকা ছিলেন যে বহু দেবতাই তাঁকে প্রেমিকা হিসাবে পেতে চাইতেন। কিন্তু,

তুলসী ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক। তাই তাঁকে ঘাটাতে কেউ সাহস করত না।এহেন তুলসী একদিন গঙ্গা নদীর তীরে ধ্যানমগ্ন গণেশের মুখোমুখি হলেন। গণেশের অনিন্দ্যকান্তি রূপে মুগ্ধ হয়ে যান তুলসি। তিনি জানতেন না, যাঁকে দেখে তাঁর হৃদয়ে বাধ ভাঙা প্রেম এসেছে, তিনি আসলে গণেশ, যিনি শিব ও পার্বতীর পুত্র। গণেশকে দেখে প্রেমে পাগল তুলসী শুধু যে নির্লজ্জের মতো এগিয়ে গেলেন তাই নয়,

গণেশের কাছে প্রেম নিবেদন করে তাঁকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কিন্তু গণেশ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি যাঁকে বিয়ে করবেন তাঁকে পার্বতীর মতো গুণসম্পন্না হতে হবে, এবং মাতা পার্বতী যেভাবে পিতা শিবের সেবা করেন, তাঁর স্ত্রীও সেভাবে সেবা করবেন বলে

তিনি আশা করেন।এমন বাক্যে যারপরনাই অপমানিত বোধ করেন তুলসী। তিনি তৎক্ষণাৎ গণেশকে অভিশাপ দেন যে, তাঁকে তাঁর অপছন্দের পাত্রীকেই বিয়ে করতে হবে। এতে গণেশও খেপে যান। তিনিও পাল্টা তুলসীকে শাপ দিয়ে বলেন,

তাঁর বিয়ে অসুরের সঙ্গে হবে।অভিশাপ পেয়ে ভেঙে পড়েন তুলসী। বুঝতে পারেন, তিনি পার্বতী ও শিব নন্দনকে শাপ দিয়ে কতবড় বিপদ ডেকে এনেছেন। গণেশকে বোঝাতে থাকেন তুলসী। মন শান্ত হলে গণেশও তুলসীর অবস্থা অনুধাবন করেন এবং শাপ কাটানোর উপায় বাতলে দেন। গণেশ বলেন,

তাঁর দেওয়া শাপ একমাত্র কাটাতে পারেন খোদ বিষ্ণু।তাঁর দেওয়া আশীর্বাদে তুলসী দেবী রূপে গণ্য হবেন। তবে, গণেশের আশপাশও তিনি মাড়াতে পারবেন না। সারাজীবনই তুলসীকে গণেশের থেকে দূরে থাকতে হবে। গণেশকে নিয়ে যা কিছু পূজার্চনা হবে তার কোনওটাতেই তুলসী থাকবেন না।এরপর গণেশের অমতেই তাঁর বিয়ে হয়। তুলসীর সঙ্গে বিয়ে হয় অসুর বীর শঙ্খচূড়ার সঙ্গে। তবে, শঙ্খচূড়ার অত্যাচারে ক্ষিপ্ত শিব তাঁকে হত্যা করেন।

About By Editor

Check Also

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে- প্রেম মানে না কোনো বাঁধা, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *