Image: google

করোনা ছোবল থেকে সেরে ওঠা 6 জন যা বললেন…

করোনা থেকে সেরা ওঠা ৬ জন কী বলতে চান…. – ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে যাওয়া ছয়জন রোগীর সঙ্গে কথা বলেছে ইনডিয়া টুডে টেলিভিশন। তারা সেরে উঠার গল্প বলেছেন, দিয়েছেন পরামর্শ। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গত শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এর মধ্যে ৫১৫ জন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না : সুস্থদের একজন কলকাতার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী মোনামি বিশ্বাস।

তিনি ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গে ব্যবস্থাপানায় মাস্টার্স করছেন। মার্চের মাঝামাঝিতে মোনামি যখন ভারত ফিরে আসেন তার একদিন পরই ধরা পড়ে তিনি কভিড-১৯ এ আক্রান্ত। ফলে দুই সপ্তাহের জন্য তাকে কোয়ারেন্টিনে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ডাক্তাররা আমার সঙ্গে অত্যন্ত সুন্দর ব্যবহার করেন এবং আমাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে অনুপ্রাণিত করেন। আমি সেখানে নেটফিক্স দেখে অধিকাংশ সময় কাটিয়েছি।’ সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং সুস্থ থাকুন। যদি কোনো সিরিয়াস লক্ষণ দেখা যায় তবে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। কারণ এটি ভয়াবহ ভাইরাস, অবহেলা করে থাকার সুযোগ নেই।’ ডাক্তাররা মানসিক শক্তি যুগিয়েছেন : নেপালে ১০ দিনের সফর শেষে গত ৮ মার্চ ভারতে ফেরেন ৪৫ বছর বয়সী আনিথা ভিনোদ। ১৬ মার্চ থেকে তার মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। কিন্তু

প্রাথমিক লক্ষণগুলো খুব গুরুতর ছিলো না বলে জানান তিনি। তারপরও স্বামীর পরামর্শে ডাক্তারের কাছে যান আনিথা। পরীক্ষায় পজিটিভ আসায় ডাক্তার তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করান। এখানে ১১দিন থাকার পর দ্বিতীয় পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসায় তিনি সুস্থ হিসেবে বাসায় ফিরে আসেন। আনিথা বলেন, ‘এ সময় ডাক্তাররা আমার সঙ্গে দরজায় দাঁড়িয়ে কথা বলতেন এবং বন্ধু-স্বজন সবাই মানসিক শক্তি যুগিয়েছেন। ফলে মনোবল হারাইনি, শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ফিরেছি।

তাই সবার উদ্দেশ্যে আমার পরামর্শ বিশ্বজুড়ে বিপুল মৃত্যুর কথা শুনে আপনারা ভয় পাবেন না।’ যুদ্ধে লড়ব ও বিজয়ী হব : স্কটল্যান্ডে কমপিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করছেন রাহুল কুমার। সেখানে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভারতে ফিরে আসেন। বাড়িতে পৌঁছেই ভাবলেন করোনা টেস্ট করানো ভালো হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করে বুঝলেন তিনি আক্রান্ত। রাহুল কুমার বলেন, ‘যখন শুনলাম আমি করোনায় আক্রান্ত, মনকে প্রবোদ দিলাম।

দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিলাম এ যুদ্ধে আমি লড়ব এবং বিজয়ী হব। ফলে ডাক্তারদের সেবার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তার কারণেই আমি সুস্থ হয়ে ফিরে আসলাম। খুব একটা অসুস্থতা বোধ করিনি : রুহিত দত্ত বলেন, ‘পরীক্ষায় যখন আমার করোনাভাইরাস ধরা পড়ল, ডাক্তার আমাকে আইসোলেশনে ভর্তি করালেন। আমি সেখানে দুই সপ্তাহ থাকতে হয়েছে, এরপর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছি। কিন্তু পরীক্ষায় আমার করোনা ধরা পড়লেও আমি খুব একটা বেশি অসুস্থতা বোধ করিনি।

বাড়িতে আসার পরও কোনো সমস্যা বোধ করছি না। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আমার পরামর্শ হচ্ছে- আপনার মধ্যে রোগের লক্ষণ থাকুক আর নাই থাকুক বাসায় অবস্থান করুন। কারণ আপনার কারণে অন্যজন অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’ শুকনো কাশি ও জ্বর ছিলো : রিতা বাচকানিওয়ালা বলেন, আমার শুকনো কাশি ও জ্বর ছিলো। ফলে কভিড-১৯ রোগ ধরা পড়লে আমি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলেছি এবং চিকিৎসা নিয়েছি।

এছাড়া আশপাশের সবাই আমাকে সাহস যুগিয়েছে। ফলে দ্রুত সুস্থ হয়েছি, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভেবেছিলাম আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব : গুজরাটের আহমেদাবাদে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়া সুমাতি সিং বলেন, ফিনল্যান্ড থেকে আমি ফেরার পর দুইদিন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ বুঝিনি।

তারপর আস্তে আস্তে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে ধারণা করি হয়তো আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই হচ্ছে। কিন্তু যখন তা সহজে যাচ্ছিলোনা তখন ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলেছি আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ।

About By Editor

Check Also

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে

ভালোবাসার টানে ১ সন্তানের মা ভারত থেকে চলে আসলেন বাংলাদেশে- প্রেম মানে না কোনো বাঁধা, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *